আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনা রিপোর্ট: মিসরের স্কান্দারিয়া শহরের গীর্জার সম্মুখে হামলার দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও এদেশের খ্রিষ্টান নাগরিকরা তাদের নিরাপত্তাহীনতার ইস্যুতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে।
শত শত মিসরীয় খ্রিষ্টান নাগরিক গত পরশু রাতে কায়রোতে অবস্থিত এদেশের কিবতী গীর্জার শীর্ষস্থানীয় পাদ্রী ‘তৃতীয় শানুদাহ’র নিকট সমবেত হয়ে নববর্ষের দিনে সমবেত খ্রিষ্টানদের উপর পরিচালিত সন্ত্রাসী হামলার নিন্দায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
মিসর সরকারের কিছু কিছু কর্মকর্তা স্কান্দারিয়া শহরের উক্ত বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে সান্তনা ও তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করার উদ্দেশ্যে ‘তৃতীয় শানুদাহ’র নিকট এসেছিলেন। তা সত্ত্বেও খ্রিষ্টানরা উক্ত হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে সমবেত হয়।
মিসর সরকারের ইকোনমি ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক উপদেষ্টা ‘উসমান মুহাম্মাদ উসমানের সাথে শীর্ষস্থানীয় পাদ্রী ‘তৃতীয় শালুদাহ’র সাথে সাক্ষাত শেষে বিক্ষোভকারীরা জনাব উসমানের গাড়ীকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকলে ছুঁড়ে এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। জনাব উসমান স্কান্দারিয়া অঞ্চলের সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করতে উক্ত পার্দীর সাথে সাক্ষাত করতে এসেছিলেন।
একইভাবে আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শেইখ আহমাদ আত তাইয়্যেব, তৃতীয় শালনুদাহ’র সাথে সাক্ষাত শেষে গাড়ীতে আরোহন করলে বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ীকে ঘেরাও করে। এ সময় পুলিশের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারীরা বিচ্ছিন্ন হয়। জনাব শেইখ আহমাদ আত তাইয়্যেবও মিসরের সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উপর চালানো হামলার ঘটনায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানাতে শানুদাহ’র সাথে সাক্ষাত করতে এসেছিলেন।
উল্লেখ্য যে, গত শনিবার (১লা জানুয়ারী) প্রত্যুষে মিসরের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের একটি বৃহৎ দল নববর্ষের উত্সব পালনের উদ্দেশ্যে এদেশের উত্তর অঞ্চলে অবস্থিত স্কান্দারিয়া শহরের একটি গীর্জায় সমবেত হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা উক্ত গীর্জার সম্মুখে একটি গাড়ী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, উক্ত বিস্ফোরণে ২১ জন নিহত ও অপর ৭৯ জন আহত হয়।#